বাংলাদেশ সাস্টেইনিবিলিটি কমপ্যাক্টের ৪র্থ উচ্চ পর্যায়ের সভার বিষয়ে একর্ড-এর বিবৃতি

বাংলাদেশের তৈরি-পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পে শ্রমিক অধিকার ও কারখানার নিরাপত্তার চলমান উন্নতিসাধনে কমপ্যাক্ট (দ্য কমপ্যাক্ট)- এর ৪র্থ উচ্চ পর্যায়ের সভার বিষয়ে ২০১৮ ট্রানজিশন একর্ড স্টিয়ারিং কমিটির বিবৃতি
২৫ জুন, ব্রাসেলস্‌, বেলজিয়াম

 
মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ট্রানজিশন মনিটরিং কমিটি কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারের সংস্কারকাজ সমন্বয় সেল (আরসিসি) প্রস্তুত হয়েছে বলে বিবেচনা না করা পর্যন্ত বাংলাদেশে একর্ডের কার্যক্রম চলমান রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে জোর অনুরোধ জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডীয় সরকারের প্রতিনিধিবৃন্দ, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য, আইএলও ও একর্ড স্বাক্ষরকারী ব্র্যান্ড এবং ইউনিয়নসমূহ।
 
কমপ্যাক্ট অংশীদারগণ (বাংলাদেশ সরকার, কানাডা সরকার, যুক্তরাষ্ট্র সরকার, ইউরোপিয়ান কমিশন, এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও) কমপ্যাক্টের অধীনে কাজের অগ্রগতি এবং অবশিষ্ট কাজ সম্পর্কে আলোচনার জন্য ২৫ জুন, ২০১৮ তারিখে ব্রাসেলস্‌এ মিলিত হন। জুলাই ২০১৩ তে কমপ্যাক্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরে ৪র্থ বারের মতো এধরনের অগ্রগতি সম্পর্কিত পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হল।*

ইউনিয়নসমূহ, মালিকপক্ষ, প্রস্তুতকারক, অ্যাপারেল রিটেইলার্স, ব্র্যান্ড এবং সুশীল সমাজের প্রতিষ্ঠানসমূহকে কমপ্যাক্ট মিটিংয়ের অপরাহ্ণ পর্বে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল যেখানে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের নিরাপত্তা সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
কমপ্যাক্ট অংশীদারগণ স্বীকার করেছেন যে, মে ২০১৭ -তে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে কিছু অগ্রগতিসাধন হয়েছে। সেইফটি কমপ্লায়েন্স বিষয়ে অগ্রগতি ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়। একইসাথে, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ও বিভিন্ন কমপ্যাক্ট অংশীদার বা সরকারের প্রতিনিধিবৃন্দ সর্বোতভাবে স্বীকার করেছে যে, বাংলাদেশ সরকারের আরসিসি এখনো বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, এবং আরসিসি প্রস্তুত বলে বিবেচিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে একর্ড-এর কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে।
উক্ত বৈঠক অনুযায়ী ২০১৮ ট্রানজিশন একর্ডে স্বাক্ষরকারী ১৮০ টিরও অধিক ব্র্যান্ডের পক্ষে ব্র্যান্ড প্রতিনিধিদের অবস্থান তুলে ধরা হল।
একর্ড স্বাক্ষরকারীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আগ্রহের বিষয় হলো, মে ২০১৩-তে শুরু হওয়া সংস্কারকাজ সম্পূর্ণ হওয়া এবং বাংলাদেশী পোশাক শিল্পের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একটি টেকসই ও সন্তোষজনক জাতীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হওয়া। শ্রমিকদেরকে অনিরাপদ পরিস্থিতিতে রেখে যথাসময়ের পূর্বেই একর্ড বন্ধ হয়ে গেলে, সেটা ব্র্যান্ডসমূহকে নিরাপদ শিল্পকারখানা থেকে পণ্য নেয়ার সামর্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে এবং বাংলাদেশ থেকে পণ্য নেয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা এবং সরবরাহকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সুনামগত ঝুঁকির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হতে পারে।

বিগত ৫ বছরে, একর্ড একটি বলিষ্ঠ, স্বচ্ছ, উচ্চ মান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি শিল্পের শ্রমিকদের নিরাপত্তা অর্জনে ব্যাপক অগ্রগতিসাধন করেছে। কিন্তু কাজ এখনও সমাপ্ত হয়নি, তবে জাতীয় এ কাঠামোটি সম্পূর্ণ বিপরীত বললেও, দৃঢ়তার সাথে একর্ডের কাজের দায়িত্বভার গ্রহণে এটা এখনও প্রস্তুত নয়।

অক্টোবর ২০১৭ তে বাংলাদেশ সরকার, বিজিএমইএ, ২০১৮ টিএ স্বাক্ষরকারী ব্র্যান্ড এবং ইউনিয়ন প্রতিনিধিবৃন্দের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ২০১৮ ট্রানজিশন একর্ড (২০১৮ টিএ) এর বিষয়ে একটি সমাধান অর্জিত হয়েছে। এই সমাধানের মাধ্যমে, বাংলাদেশে একর্ডের কার্যক্রম মে ২০১৮ এর পরেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ সরকার, বিজিএমইএ, একর্ড স্বাক্ষরকারী ব্র্যান্ড ও ইউনিয়নসমূহ এবং আইএলও-এর প্রতিনিধিবৃন্দের সমন্বয়ে একটি ট্রানজিশন মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে যা স্থায়ীভাবে একর্ডের দায়িত্বভার গ্রহণ করার জন্য জাতীয় সংস্কার কাঠামোর প্রস্তুতির বিষয়টি মূল্যায়ন করবে।
 
একর্ড স্বাক্ষরকারীবৃন্দ এবং বিশেষ করে ব্র্যান্ডসমূহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং আইএলও-কে আহ্বান করে যেন সাস্টেইনেবল কমপ্যাক্টের বাংলাদেশ সহকর্মীরা এই ট্রানজিশন মনিটরিং কমিটি প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে পূর্বসম্মত ব্যবস্থাদির প্রতি বাংলাদেশ সরকারের সমর্থন প্রকাশের অনুরোধ জানায়। শুধুমাত্র যখন এই মূল্যায়ন সংস্থা নির্ধারণ করবে যে, পূর্বে সম্মত অভীষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ জন্য আরসিসি প্রস্তুত তখনই একর্ড তার কার্যক্রমগুলো ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেবে।
অধিকাংশ কমপ্যাক্ট অংশীদারগণ তাদের বিবৃতি এবং মধ্যবর্তী আলোচনায় একর্ড ব্র্যান্ড প্রতিনিধিবৃন্দের অবস্থান ব্যাপকভাবে সমর্থন করেন। ২৫ জুন ২০১৮ এর কমপ্যাক্ট মিটিং-এ অন্যান্য কমপ্যাক্ট সদস্যগণ সরকারী কাঠামোর প্রাতিষ্ঠানিক ও বাস্তবিক প্রস্তুতি সম্পাদনের মূল উপাদান হিসেবে একর্ডের এর দক্ষতা এবং সহযোগিতা কাজে লাগানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।**

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান “একর্ড-এর চলমান মূল্যায়ন কাজের সাথে সহযোগী মনোভাব বজায় রাখতে – যদি সেটা না হয় – সেক্ষেত্রে এটা একটি বাংলাদেশ-পরিচালিত কার্যক্রমে রূপান্তরিত হতে পারে। লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের নিরাপত্তা এবং কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতার জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, এই মূল্যায়নকে নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ না করে নিরপেক্ষ এবং নিখুঁতভাবে করতে হবে।”
এমি ম্যাকগ্যান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক কর্মকর্তা, আরসিসি এর বর্তমান প্রস্তুতি সম্পর্কে এক মন্তব্যে বলেন: “বর্তমানে একর্ড ও অ্যালায়েন্সের কোনো বিকল্প নেই। রেমেডিয়েশন কোঅর্ডিনেশন সেল মাত্র এক বছর আগে শুরু হয়েছে এবং এখনো সম্পূর্ণরূপে লোকবল সম্পন্ন নয়। আমরা অ্যালায়েন্স এবং একর্ডের ক্ষেত্রে যেমন দেখেছি, একটি সম্পূর্ণ কার্যক্ষম নিরাপত্তা সংস্থার বিকাশে কয়েক বছর লেগেছে। এটা বিস্ময়কর নয় যে, আরসিসি দায়িত্বভার গ্রহণ করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয়।”
ইউরোপীয় কমিশন সুনিদির্ষ্টভাবে বাংলাদেশ সরকারকে হাই কোর্টের কাছে পুনরায় জমা দেওয়ার অনুরোধ জানায় (বাংলাদেশ সরকার এবং একর্ডের বিরুদ্ধে Suo Moto কেস) যেটি টিএমসি গঠনে স্পষ্টভাবে বাংলাদেশ সরকারের সমর্থন প্রকাশ করে।
সকল [বাংলাদেশ সাস্টেইনিবিলিটি] কমপ্যাক্ট অংশীদারগণ উল্লেখ করেন যে, কমপ্যাক্ট প্রতিষ্ঠার বিবৃতিতে তাঁরা একর্ডকে স্বাগত জানাচ্ছেন; এটা এমন একটি বিষয় যা আমাদের অব্যাহত রাখা দরকার। ইউরোপীয় কমিশনের একজন প্রতিনিধি এক বিবৃতিতে বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন হিসেবে নভেম্বর ২০১৮ এর পরেও একর্ডের কাজের কোন সমাপ্তির তারিখ যেন না থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারকে [হাইকোর্টে] পুনরায় জমা দেওয়ার জন্য জোরালোভাবে উত্সাহিত করছি।”
আরও ইতিবাচক যা পাওয়া গিয়েছে তা হল, একটি সুদৃঢ় জাতীয় সংস্কার কাঠামোর প্রতিষ্ঠার জাতীয় প্রচেষ্টাকে পূর্ণ সহায়তা দিতে একর্ড প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বাংলাদেশ সরকারকে এই সুযোগটি গ্রহণ করা এবং তৈরি-পোশাক শিল্পের লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের সুবিধার্থে কর্মস্থলে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধিমালা ও মানদণ্ড প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে আরসিসি-কে যোগ্য করে তুলতে ২০১৮ ট্রানজিশন একর্ডের সাথে কাজ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
আরসিসি-র প্রস্তুতি সম্পাদনে এবং সম্পূর্ণ কার্যক্ষম একটি জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে একর্ডের কাজ চূড়ান্তভাবে হস্তান্তরে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা ও আরসিসি অংশীদার এবং কমপ্যাক্ট অংশীদারদের প্রতি একর্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
 

*http://trade.ec.europa.eu/doclib/docs/2018/july/tradoc_157109.pdf
**বৈঠকের সম্পূর্ণ রেকর্ডিং পাবেন এখানে: https://webcast.ec.europa.eu/high-level-meeting-on-bangladesh-compact

 
বিবৃতিটি আপনি এখানে ডাউনলোড করতে পারবেন
 
আরও তথ্যের জন্য, অনুগ্রহ করে যোগাযোগ করুন:
রব ওয়েস
নির্বাহী পরিচালক
rob.wayss@bangladeshaccord.com

www.bangladeshaccord.org
media@bangladeshaccord.com