একর্ডের ৪ বছরে বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি

চার বছরে বাংলাদেশে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তায় একর্ড বাংলাদেশের পোশাক কারখানাসমূহে উল্লেখযোগ্য উন্নতিসাধন করেছে এবং কারখানায় অমীমাংসিত নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান চুক্তির শেষ বছরে পদার্পণ করে কারখানাগুলোকে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে সহায়তা করার জন্য একটি সরাসরি আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

২০১৩ এর মে তে একর্ড বাংলাদেশে তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানাসমূহ নিরাপদ করার লক্ষ্যে একটি নিরাপত্তা কার্যক্রমের সূচনা করে। এই আইনত বাধ্যতামূলক চুক্তিটি ২২০ টির অধিক আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড এবং রিটেইলার, ২ টি গ্লোবাল ইউনিয়ন এবং তাদের সাথে জাতীয় পর্যায়ে তৈরি পোশাক শিল্পের সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের নিয়ে স্বাক্ষরিত হয়।

১৮০০ এর অধিক কারখানায় প্রাথমিকভাবে আগুন, বৈদ্যুতিক ও কাঠামোগত নিরাপত্তা পরিদর্শন করা হয়েছে যেখানে ১০০,০০০ এর অধিক নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। একর্ড কারখানা মালিক, তাদের কোম্পানি এবং স্বাক্ষরকারী শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে এসব নিরাপত্তা ঝুঁকি সংস্কার করার জন্য এবং কারখানা পর্যায়ে সেইফটি কমিটি ও একটি স্বাধীন নিরাপত্তা বিষয়ক অভিযোগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তা বিষয়ক সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের সক্ষম করে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

“স্বাধীন পরিদর্শন ব্যবস্থা, ব্র্যান্ডের যৌথ অংশগ্রহণ, জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশ, জবাবদিহিতা এবং দ্বিপাক্ষিক পরিচালনা ব্যবস্থার এই অভূতপূর্ব মডেল সফল বলে প্রমাণিত হয়েছে”, বলেন একর্ডের নির্বাহী পরিচালক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিরাপত্তা পরিদর্শক রব ওয়েস। “৬৫ টি কারখানা সম্পূর্ণ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে এবং ৪০০ এর অধিক কারখানায় ৯০% এর বেশী প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, এই অর্জনসমূহ প্রশংসনীয়। আমাদের অবশ্যই তৎপর থাকতে হবে যেন সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয় যেহেতু আমরা এখনো দেখছি অনেক কারখানায় বড় ধরনের নিরাপত্তা সমস্যা সমাধান হয়নি”।

একর্ডের ৫ম বছরে পদার্পনের সাথে, স্বাক্ষরকারী কোম্পানিসমূহ যে সকল কারখানা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে সেই সকল কারখানার সংস্কার কাজে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। একর্ড তালিকাভুক্ত যে সকল কারখানার সাথে একর্ডের স্বাক্ষরকারী কোম্পানিগুলোর বর্তমানে ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই, তাদের সহায়তার জন্য একর্ড একটি সরাসরি আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

“সুরক্ষিত ফায়ার এক্সিট, ফায়ার অ্যালার্ম, ফায়ার প্রোটেকশন সিস্টেম এবং কাঠামোগত রেট্রোফিটিং কার্যক্রমের মত প্রধান এবং ব্যয়বহুল নিরাপত্তা ব্যবস্থাসমূহ যেন জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার করা হয় তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে”, বলেন একর্ডের নেদারল্যান্ডস অফিসের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স প্রধান ইয়্যোরিস ওল্ডেনজিল। “যে সকল একর্ডভুক্ত কারখানার সাথে একর্ড কোম্পানিসমূহের বর্তমানে কোন ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই, তাদের মধ্যে উপযুক্ত সাপ্লায়ারগণ অবশিষ্ট সংস্কার কাজের খরচের ৫০% একর্ড রেমিডিয়েশন ফান্ডের মাধ্যমে সরাসরি অর্থায়ন সুবিধা পাবেন। এই সরাসরি সহায়তা সীমিত এবং আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে প্রদান করা হবে”।

একর্ড যেহেতু শেষ বছরে পদার্পণ করেছে, একটি প্রধান লক্ষ্য থাকবে যত বেশী কারখানায় সম্ভব সেইফটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করা এবং সেইফটি ট্রেইনিং প্রোগ্রাম পরিচালনা করা এবং কারখানার সেইফটি কমিটিতে অথবা একর্ডের নিরাপত্তা বিষয়ক অভিযোগ প্রক্রিয়ায় দাখিলকৃত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগগুলো কার্যকরভাবে সমাধান করা।

২০১৮ সালের পর, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা বিধিমালা এবং নিরাপত্তা অধিকার যথাযথভাবে সমুন্নত এবং আরও অগ্রগতি অর্জনের পথ কিভাবে নিশ্চিত করা যায় তার জন্য অ্যাপারেল ব্র্যান্ড, রিটেইলারগণ এবং ইউনিয়নসমূহের মধ্যে আলোচনা চলছে।

প্রধান মাইলফলক

∙৪০০ টির বেশী একর্ডভুক্ত কারখানা ৯০% এর বেশী সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে এবং তাদের সংস্কার কাজ শেষের পথে।

∙৬৫ টি কারখানা প্রাথমিক পরিদর্শনে চিহ্নিত সকল সংশোধনী কাজ সম্পন্ন করেছে।

∙৩০০ এর বেশী যৌথ শ্রমিক- মালিকপক্ষ দ্বারা গঠিত সেইফটি কমিটিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে এবং নিয়মিতভাবে কারখানার নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

∙একর্ডের স্বাধীন এবং বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা বিষয়ক অভিযোগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শ্রমিক ও তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া ৯০ টির বেশি নিরাপত্তা বিষয়ক অভিযোগের সমাধান হয়েছে।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য, অনুগ্রহ করে যোগাযোগ করুন:

www.bangladeshaccord.org

একর্ড অফিস ঢাকা:
মাহফুজা আক্তার, কমিউনিকেশনস অফিসার
mahafuza.akter@bangladeshaccord.com
+৮৮ ০২ ৯৮৫২০৯৩
+৮৮ ০১৭৬৬৬৯৫৯২৬

বাংলাদেশের বাইরে প্রেসের জন্য:
ইয়্যোরিস ওল্ডেনজিল, হেড অফ পাবলিক অ্যাফেয়ারস এন্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট
joris.oldenziel@bangladeshaccord.com
অফিস আমস্টারডাম: + ৩১ (০) ২০ ৫২০ ৭৪৩১
মোবাইল: + ৩১ ৬১৪৯৫৪৪৩০

Download the Press Release here