ত্রৈমাসিক আপডেট মার্চ ২০১৬

স্বাক্ষরকারী, কারখানা এবং একর্ডের কারখানা নিরাপত্তা কার্যক্রমে আগ্রহী সকলের জন্য বাংলাদেশ একর্ডের নিউজলেটার।

পরিদর্শন
একর্ডে স্বাক্ষরকারী কোম্পানিগুলো কারখানা তালিকায় নতুন কারখানা অন্তর্ভুক্ত করছে এবং এপ্রিল ২০১৬ হতে নতুন এক দফায় প্রাথমিক পরিদর্শন পরিচালিত হবে। বর্তমানে সর্বমোট ১৬৬১ টি কারখানা একর্ডের আওতাভুক্ত রয়েছে।

একর্ডের ইঞ্জিনিয়ারগণ সংশোধনী কাজ যাচাই করার জন্য প্রতিটি কারখানায় ৩-৬ মাসের মধ্যে ফলো আপ পরিদর্শন পরিচালনা করছে।

সংশোধনী কার্যক্রম
সংশোধনী কাজের সামগ্রিক অগ্রগতি একর্ড অগ্রগতি বিষয়ক পাতা থেকে দেখা যাবে। সম্প্রতি প্রকাশিত ত্রৈমাসিক সমষ্টিগত রিপোর্টে সংশোধনী কাজের অগ্রগতির বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। সর্বমোট ১০৩৮৪৬ টি নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫৩০৯১ টি সমস্যা সংশোধিত হয়েছে বলে জানা গেছে অথবা যাচাই করা হয়েছে যা মোট সংখ্যার ৫০% এরও বেশী।

একর্ডের আওতাধীন কারখানাগুলোর মধ্যে সংশোধনী কার্যক্রমে ব্যাপক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ১৫% কারখানা জানিয়েছে তাদের সংশোধনী কার্যক্রমের তিন চতুর্থাংশের বেশী সম্পন্ন হয়েছে যেখানে ২০% কারখানা জানিয়েছে তাদের সংশোধনী কার্যক্রমের এক চতুর্থাংশের কম সম্পন্ন হয়েছে।

সময়সূচি থেকে পিছিয়ে পড়েছে এমন বেশ কিছু কারখানার সংশোধনী প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে একর্ড একটি সংশোধনী সম্পাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

একর্ডের এস্কেলেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন কারখানার সংশোধনী কার্যক্রম সন্তোষজনক না হলে তা জানানো হয় এবং একর্ড কোম্পানির সাথে ঐ সাপ্লায়ারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করা হতে পারে বলে জানিয়ে দেয়া হয়। যে সকল সাপ্লায়ারদের সাথে একর্ড কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক লেনদেন কর্মস্থলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে ছিন্ন করা হয়েছে তাদের তালিকা রয়েছে এখানে।

যে কারখানাগুলো তাদের সব সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছে একর্ড সেগুলোতে ফলো-আপ পরিদর্শনে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

একর্ডের প্রাথমিক পরিদর্শনে প্রাপ্ত সকল সমস্যার সমাধান হয়েছে কিনা তা যাচাই করা হয়ে গেলে কারখানাগুলো একটি স্বীকৃতিপত্র পাবে এবং এখানে তাদের তালিকা দেয়া হলো।

আইএফসির রেমিডিয়েশন লোন কার্যক্রমের সহযোগী ব্যাংকগুলোর সাথে সাম্প্রতিক একটি মিটিং এ ৪ টি সহযোগী ব্যাংক একর্ড এবং অ্যালায়েন্স কে অবহিত করে যে তারা এই পর্যন্ত ৭ টি কারখানাকে মোট ৩ মিলিয়ন ইউএসডলার এরও বেশী ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে। প্রতিটি ব্যাংক উল্লেখ করে তারা আরো প্রায় ১০ টি কারখানায় রেমিডিয়েশন লোন দেয়ার কথা বিবেচনা করছে। এমন কিছু সাপ্লায়ার যারা ঋণ সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য এবং এই কার্যক্রমের প্রসারের জন্য একর্ড আইএফসি এবং তার সহযোগী ব্যাংকগুলোর সাথে একটি তৃতীয় সভার আয়োজনের জন্য কাজ করছে।

ইউএসএআইডি ডেভেলপমেন্ট ক্রেডিট অথোরিটি (ডিসিএ) সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে একর্ড অথবা সরকারী উদ্যোগে পরিদর্শনকৃত কারখানাগুলোর রেমিডিয়েশন লোন হিসেবে ৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার বরাদ্দ রয়েছে।

স্বাক্ষরকারী কোম্পানিগুলো স্বাক্ষরকারী লগ-ইন এ প্রাপ্ত নির্দেশনা এবং ব্যাংক এর সাথে যোগাযোগ এর তথ্যাবলী ব্যবহার করে কারখানাগুলোকে আইএফসি বা ইউএসএআইডি এর ডিসিএ ঋণ এর জন্য আবেদনে সহায়তা করতে পারে।

সেইফটি কমিটিসমূহ
নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন এবং একর্ড স্বাক্ষরকারী কোম্পানির সক্রিয় অংশগ্রহন রয়েছে এমন ৪০ টি কারখানায় একর্ডের সেইফটি কমিটির পরীক্ষামূলক কর্মসূচী চলমান রয়েছে। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হল শ্রমিকদের সেইফটি কমিটি সম্পর্কে অবহিত করা এবং শ্রমিক ও ব্যবস্থাপকদের প্রশিক্ষণ দেয়া যার ফলে তারা নিরাপত্তামূলক সংশোধনী কার্যক্রমের, তত্ত্বাবধান এবং নিরাপত্তাজনিত অভিযোগ সমূহের সমাধানে একটি অর্থপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিটি কারখানায় মালিক পক্ষ, স্বাক্ষরকারী কোম্পানি, ইউনিয়ন ফেডারেশন এবং কারখানা পর্যায়ের ইউনিয়নগুলোর সাথে পাইলট কর্মসূচীটি ব্যাখ্যা এবং আলোচনার জন্য একটি প্রাথমিক সভার আয়োজন করা হয়। একর্ড সকল শ্রমিককে তাদের কারখানার সেইফটি কমিটি এবং একর্ডের মাধ্যমে পাওয়া অন্যান্য সহযোগিতা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য কারখানার সকল কর্মচারীকে নিয়ে সভার আয়োজন করে।

সেইফটি কমিটির সদস্যগণ ৭টি সেশনের মাধ্যমে সংশোধনী কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান, ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, প্রাপ্ত অভিযোগের সমাধান, যৌথ সমস্যা সমাধান এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তার তত্ত্বাবধান বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। এখন পর্যন্ত ৩০ টি কারখানায় ৭৫ টির ও বেশি প্রশিক্ষণ সেশন করা হয়েছে এবং একর্ড তার পাইলট প্রোগ্রাম ইউনিয়নভুক্ত কারখানাগুলোতে সম্প্রসারণ করছে।

স্টেকহোল্ডারদের সংশ্লিষ্টতা
জানুয়ারির শেষের দিকে, একর্ড তাদের দ্বিতীয় ফলো- আপের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অনুযায়ী লক্ষ্য পূরণের অগ্রগতি নিরূপণ করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট ডেলিগেশন (ইইউ- ইউএস- আইএলও) এর সাথে বৈঠক ও পরামর্শ সভায় অংশ নেয়। একর্ড সরকার কর্তৃক আয়োজিত দুইটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহন করে এবং পৃথকভাবে ইইউ এবং ইউএস এর কমপ্যাক্ট ডেলিগেশন সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে। সভায় একর্ড সংশোধনী কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য এবং বর্ধিত সহযোগিতা ও কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য পদক্ষেপসমূহের সমন্বয়ে তাদের গৃহীত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে। বিএলএ নীতিমালা অনুযায়ী সেইফটি কমিটি প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে কমিটিগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ, কারখানায় তাদের নিরাপত্তা বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা, এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো উত্থাপন ও সেগুলো আমলে নেয়ার সুযোগ করে দেয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করে একর্ড।

একর্ডের আন্তঃরাষ্ট্রীয় নেতৃস্থানীয় এবং স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের সাথে বিজিএমইএ এর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মাসিক সভার অংশ হিসেবে, পরিদর্শনকৃত সাপ্লায়ার কারখানাগুলোতে সংশোধনী কার্যক্রমের অগ্রগতি সাধনে এই প্রচেষ্টায় সহায়তা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজিএমইএ। একর্ডের তালিকাভুক্ত যে সকল সাপ্লায়ার সংশোধনী কার্যক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে খুব কম এগিয়েছে তাদের এই অবস্থার কারণ জানতে এবং বাকি সংশোধনী কার্যক্রম শেষ করার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং তাদের সাহায্য করার জন্য বিজিএমইএ একটি আউটরিচ কর্মসূচী আরম্ভ করেছে।

পরিচালনা
পরবর্তী স্টিয়ারিং কমিটি মিটিং এপ্রিল ২০১৬ তে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। জানুয়ারি মাসের সভার কার্যবিবরণী এখানে পাওয়া যাবে।

জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত এডভাইজরি বোর্ডের সভার প্রতিবেদন এখানে পাওয়া যাবে।

স্বাক্ষরকারীদের ঘটনাসমূহ
কোম্পানি ককাস: স্বাক্ষরকারী কোম্পানিগুলো তাদের স্টিয়ারিং কমিটির প্রতিনিধিগণের সাথে ২৮- ২৯ শে জানুয়ারি ২০১৬ তে আমস্টারডামে বৈঠক করেন। স্বাক্ষরকারী কোম্পানিগুলোর সাথে একটি প্যানেল ডিসকাশনের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন এবং স্বাক্ষরকারী সাক্ষীগণ সভার একাংশে যোগদান করেন। সংশোধনী কার্যক্রমের গতিপ্রকৃতি এবং ইউনিয়ন বিহীন কারখানাগুলোতে সেইফটি কমিটির কার্যক্রম প্রবর্তন ছিল এই আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু।

মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরকারী কোম্পানিগুলোর আঞ্চলিক সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে স্বাক্ষরকারী লগইন এ।

পরবর্তী কোম্পানি ককাস মিটিং ১লা জুলাই লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে।