বাংলাদেশে তৈরী পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লোন প্রদানের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এর সাথে একর্ডের সহযোগিতামূলক চুক্তি

বাংলাদেশে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তায় একর্ড ১৫০০ টির বেশি পোশাক কারখানার সাথে সম্পৃক্ত ২০০ এর বেশি আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড ও রিটেইলা এবং ২ টি গ্লোবাল ইউনিয়ন ও তাদের সাথে জাতীয় পর্যায়ে তৈরী পোশাক শিল্পের সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের নিয়ে স্বাক্ষরিত একটি অভূতপূর্ব ও আইনত বাধ্যতামূলক চুক্তি। এই কারখানাগুলোর সবগুলোতে অগ্নি, বৈদ্যুতিক এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। সংশোধনী কর্ম পরিকল্পনা (ক্যাপস) তৈরী করা হয়েছে যেখানে কিভাবে এবং কতদিনের মধ্যে চিহ্নিত নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। পরিদর্শিত কারখানাগুলোতে নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা একটি ব্যাপক কর্মকান্ড এবং এর জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমানে রিসোর্সের প্রয়োজন।

আইএফসি প্রোগ্রাম, একটি গুরুত্বপূর্ন অবদান যার মাধ্যমে একর্ড পরিদর্শিত কারখানাগুলোতে সময় মত সংশোধনী কার্যক্রম নিশ্চিত করার মাধ্যমে তৈরী পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা বিষয়ক সংশোধনী কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লোন পাওয়া যাবে। আইএফসি এর সেফটি রেমিডিয়েশন লোন প্রোগ্রাম বাংলাদেশের ৫ টি সহযোগী ব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এই উদ্যোগে একর্ড ২ লক্ষ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার দিবে। একর্ড আইএফসি সহযোগী ব্যাংকগুলোকে একর্ডের পরিদর্শন ও ক্যাপস এর উপর প্রশিক্ষণ দিবে এবং সুবিধভোগী কারখানাগুলোর সংশোধনী কার্যক্রম পরিদর্শন ও যাচাই এর বিষয়ে তথ্য প্রদান করবে।

“তৈরী পোশাক কারখানার মালিকগন বেশ কিছু সময় ধরে সংশোধনী কার্যক্রমের ফান্ডের জন্য লোনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। আইএফসি প্রোগ্রাম তৈরী পোশাক শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন মেটাতে যাচ্ছে। আইএফসির সাথে বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানাগুলোকে এই ধরনের অর্থায়ন সুবিধার আওতায় আনতে পেরে একর্ড আনন্দিত। একর্ডের লক্ষ্যগুলো সম্পূর্নভাবে বাস্তবায়নের জন্য একর্ডের স্বাক্ষরকারী কোম্পানিগুলোর প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের প্রযুক্তিগত, বাণিজ্যিক, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি এই আইএফসি লোন প্রোগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন”, একর্ডের নির্বাহী পরিচালক, রব ওয়েস বলেন।

কারখানাগুলোর নিরাপত্তা সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একর্ড অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী কোম্পানিগুলোর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় একর্ড তাদের সাথে কাজ চালিয়ে যাবে। একর্ডের অধীনে, কারখানাগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন ও সংশোধনী কাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে তা নিশ্চিত করতে অংশগ্রহনকারী ব্র্যান্ড এবং রিটেইলারগন সাপ্লায়ারদের সাথে তাদের ব্যবসায়িক চুক্তিগুলো পুনঃর্বিবেচনা করবে, যেন তাদের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করা আর্থিকভাবে সম্ভবপর হয়। প্রতিটি স্বাক্ষরকারী কোম্পানি তাদের সুবিধা অনুযায়ী, কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজগুলো চালিয়ে যাওয়ার জন্য যেন আর্থিকভাবে সক্ষম হয় তা নিশ্চিত করতে বিকল্প পদ্ধতি যেমন, যৌথ বিনিয়োগ, লোন প্রদান, ডোনার ও সরকারী সহায়তা গ্রহন, ব্যবসায়িক প্রনোদনা অথবা সরাসরি সংস্কার কাজের জন্য অর্থ প্রদানসহ অন্যান্য পদ্ধতিও প্রয়োগ করতে পারে।

একর্ড নিশ্চিত যে, একর্ডের প্রচেষ্টা বাংলাদেশী পোশাক শিল্পকে একটি নিরাপদ, টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে অবদান রাখবে।

আরও তথ্যের জন্য:

media@bangladeshaccord.com

একর্ড অফিস ঢাকা: +৮৮ ০২ ৯৮৫২০৯৩-৬
একর্ড অফিস আমস্টারডাম: + ৩১ (০) ২০ ৫২০ ৭৪৩১

একর্ড সম্বন্ধে
বাংলাদেশে একটি নিরাপদ ও সুস্থ তৈরী পোশাক শিল্পের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য পোশাক ব্র্যান্ড এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলোর মধ্যে একর্ড একটি স্বাধীন ও আইনত বাধ্যতামূলক চুক্তি। আমাদের লক্ষ্য হলো শ্রমিকদের জন্য এমন একটি কর্মপরিবেশ তৈরী করা যেখানে কোন শ্রমিককেই অগ্নিকান্ড, ভবন ধ্বস অথবা এমন কোন দূর্ঘটনার আশংকা করতে হবে না, যা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপযুক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

চুক্তির বৈশিষ্ট্য সমূহ
#১ বাংলাদেশী তৈরী পোশাক শিল্পে একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্র্যান্ড এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলোর মধ্যে একটি পাঁচ বছর মেয়াদী আইনত বাধ্যতামূলক চুক্তি।
#২ ব্রান্ডগুলোর সহায়তায় একটি স্বাধীন পরিদর্শন কার্যক্রম, যেখানে শ্রমিক এবং ট্রেড ইউনিয়নও সম্পৃক্ত থাকবে।
#৩ সকল পরিদর্শনের প্রতিবেদন এবং তাদের সংশোধনী কর্ম পরিকল্পনা একটি স্বচ্ছ প্রতিবেদন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকাশ।
#৪ সংশোধনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইন্ডাষ্ট্রি কর্তৃক প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি।
#৫ একটি বিস্তৃত প্রশিক্ষণ ও শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন কর্মসূচী।
#৬ প্রত্যেকটি একর্ডভুক্ত কারখানায় নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটি গঠন করা।