বিবৃতি- বাংলাদেশে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তায় একর্ড

২৫ জুন ২০১৫- বাংলাদেশে একর্ড স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তৈরী পোশাক কারখানাগুলো নিরাপদ করে গড়ে তুলতে সংশোধনী কাজ তরান্বিত করা এবং সুদৃঢ়ভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা।

একর্ড এর স্টিয়ারিং কমিটি ঢাকায় গত ২২ থেকে ২৪ জুন স্বাক্ষরকারী প্রতিনিধিগন এবং বাংলাদেশী মূল সংগঠকদের সাথে অগ্রগতি নিয়ে এবং এক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনায় মিলিত হন। একর্ড এর চুক্তি বাস্তবায়ন এবং পোশাক কারখানাগুলো নিরাপদ রাখতে কোম্পানি এবং স্বাক্ষরকারী ট্রেড ইউনিয়ন, তৈরী পোশাক কারখানাসমূহ, এবং অন্যান্য মূল সংগঠকদের সাথে কাজ করার বিষয়টি স্টিয়ারিং কমিটি পুণরায় নিশ্চিত করেছে।

স্টিয়ারিং কমিটিই একর্ডের পরিচালনা পরিষদ যেখানে বর্তমানে সিএন্ডএ, এইচএন্ডএম, ইন্ডিটেক্স, অট্টো গ্রুপ, পিভিএইচ, চিবো, গ্লোবাল ইউনিয়নসমূহ ইন্ডাস্ট্রিঅল এবং ইউনিগ্লোবাল, ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল, স্বাক্ষরকারী স্বাক্ষী ওয়ার্কার রাইটস্‌ কনসর্টিয়াম এবং ক্লিন ক্লোদস্‌ ক্যাম্পেইন এর প্রতিনিধিগন রয়েছেন।

একর্ড স্টিয়ারিং কমিটি ত্রৈমাসিক সভার জন্য ঢাকাস্থ একর্ড কার্যালয়ে মিলিত হন যেখানে পরিদর্শিত কারখানার নিরাপত্তা সমস্যাগুলো সংশোধনে সহযোগিতা ও তা তরান্বিত করার বিষয়ে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কমিটির বিষয়ে, এবং জাতীয় প্রচেষ্টায় সহায়তা করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সভায় ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল ফেডারেশন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস্‌ ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্ট এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন, বিদেশী দূতাবাস ও হাই কমিশনসমূহ এবং একর্ড উপদেষ্টা পরিষদ সকল মূল সংগঠকগনের সাথে কাজ করার বিষয়ে একর্ডের পক্ষ থেকে পুনঃপ্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। বিজিএমইএ এর সাথে তাদের চিন্তা- ভাবনা নিয়ে একটি উন্মুক্ত এবং গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং পারস্পারিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং বিশ্বস্ততার সাথে বক্তব্য প্রদানে যৌথ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।

বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো নিরাপদ রাখতে যে অগ্রগতি হয়েছে তা স্টিয়ারিং কমিটি উপলব্ধি করেছে। চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর দুই বছরের মধ্যেই একর্ড ১৫০০ এর বেশি কারখানায় অগ্নি, বৈদ্যুতিক এবং কাঠামোগত নিরাপত্তা বিষয়ে পরিদর্শন শেষ করেছে। এক হাজারের ও বেশি সংশোধনী কর্ম পরিকল্পনা (ক্যাপ) তৈরী হয়েছে, এবং একর্ড ইঞ্জিনিয়ারগন প্রতি মাসে ২০০’র অধিক কারখানায় সংশোধনী কাজ পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করছেন। ২০১৫ সালের মে মাসে, একর্ড প্রথম এমন ২ টি কারখানা যাচাই করেছে যারা প্রাথমিক পরিদর্শন থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের সকল সংশোধনী কাজ শেষ করেছে।

স্টিয়ারিং কমিটি এ সকল সফলতার বিষয়ে অবগত হয়েছেন। সকল সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে রিপোর্ট এসেছে এরকম আরও কিছু কারখানা যাচাই করার জন্য একর্ডের কর্মকর্তাগন প্রস্তুতি গ্রহন করছেন, সেই সাথে যে সকল পরিদর্শিত কারখানায় সংস্কার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে হচ্ছে তা নিয়েও একর্ড উদ্বিগ্ন। একর্ডে স্বাক্ষরকারী কোম্পানি এবং একর্ডভুক্ত সকল কারখানা ক্যাপস এ উল্লেখিত সময়সীমা অনুযায়ী দ্রুততার সাথে কাজ শেষ করবে এবং যে কারনে বিলম্ব হয়েছে তার সমাধান হয়েছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হবে। সংস্কার কাজ সম্পন্ন প্রক্রিয়া অপর্যাপ্ত অথবা নির্দিষ্ট সময়ের থেকে পিছিয়ে থাকা কারখানায় সংস্কারের মাত্রা এবং গতি তরান্বিত করার লক্ষ্যে একর্ডও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

একর্ডভুক্ত কারখানাসমূহে শ্রমিক- মালিকপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত পেশাগত নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটি (ওএসএইচ) প্রতিষ্ঠা করার মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে একর্ড। বাংলাদেশী আইন অনুসারে একর্ড তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং ইইউ এর সুপারিশকৃত সাস্টেইনেবিলিটি কম্প্যাক্ট এর সাথে সমন্বয় রেখে বাংলাদেশের শ্রম আইনের বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আহবান জানাচ্ছে।

একর্ডের আওতাধীন কারখানাগুলোতে সংশোধনী কাজে সহায়তার ক্ষেত্রে একর্ডের স্বাক্ষরকারীগন তাদের প্রতিশ্রুতি রাখবে তা নিশ্চিত করতে একর্ড স্টিয়ারিং কমিটি অঙ্গীকারবদ্ধ। একর্ড বিশ্বাস করে যে, এর ফলে বাংলাদেশ পোশাক শিল্প নিরাপদ, টেকসই এবং প্রতিযোগীতামূলক অবস্থানে পৌঁছাবে, যেখানে শ্রমিকদের মধ্যে আগুন, ভবন ধ্বস, অথবা অন্য কোন দূর্ঘটনার আশংকা থাকবে না, যা যৌক্তিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাগত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।